saanjher-baati-14-Jan-2020

 




বান্দরবানের গহীনে হারাই Part 1

বান্দরবানের গহীনে হারাই Part 1

১। তিন বছর পর পর ১৫ দিনের জন্য চিত্ত বিনোদন ছুটি পাই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে, সেই সাথে এক মাসের বেসিক স্যালারিও পাওয়া যায়। সবাই যা করে তা হলো টাকাটা জমিয়ে রেখে সব সময়ের মত অফিস করে, ছুটিটা ভোগ করে না। আমি সেই জাতেরই না, আমি যে কোন কিছুর বিনিময়ে ছুটিটাই ভোগ করতে চাই। গত বারের চিত্ত বিনোদনের ছুটিতে ঘুরে বেড়িয়েছি ইন্ডিয়া। প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল লাদাখ অঞ্চলে ঘুরবো। সেই ভাবেই সব পরিকল্পনা করে ব্যাগে শীতের কাপড় গুছিয়ে রেখে রওনা হলাম টার্কি কারণ টার্কি থেকে ফিরেই পরের দিনের দিল্লীর ফ্লাইট আমার। কিন্তু টার্কি সফরের সময়ে লেহ অঞ্চলের এডভ্যান্স ওয়েদার ফোরকাস্ট চেক করে দেখি টানা বৃষ্টির আভাস। বৃষ্টি আমার ছুটি পন্ড করবে সেটা চাইনা তাই বদলে ফেললাম পরিকল্পনা। ব্যাগ থেকে শীতের কাপড় নামিয়ে গরমে পরার পোশাক নিয়ে দিল্লী থেকে রওনা হলাম রাজস্থান। কিন্তু এবারের ছুটিটায় কি করবো সিদ্ধান্তই নিতে পারছিলাম না। প্রথম পছন্দ ছিল অন্নপূর্ণা সার্কিট ট্রেক। ১৫ দিনে সেটা করা সম্ভব না তাই ভাবলাম নতুন কোন দেশে যাই…. হয়তো মিশর বা কেনিয়া… বা সেন্ট্রাল এশিয়া ট্যুর। কোনটাই ধোপে টিকললো না ভিসার পেছনে দৌড়ানোর সময় নেই এখন। আর তাছাড়া খোঁজ নিয়ে জানলাম বর্তমান ভিসি চিত্ত বিনোদন ছুটিতে বহির্বাংলাদেশ ছুটি দিচ্ছে না। এটা নিয়েও ঝামেলা করার এনার্জি না থাকায় দেশেই বিকল্প কিছু ভাবতে লাগলাম।
বান্দরবানের গহীনে হারাই

এর মাঝে জানলাম অরণী আর রুহি ভাই ৭ দিনের জন্য বান্দরবান যাবে, চাইলে ওদের সাথে জয়েন করতে পারি। ভেবে দেখলাম খারাপ হয়না বরং ট্রিপ শেষে আমি কোথাও অতিরিক্ত দুই/চার দিন থেকেও যেতে পারি। কাজেই অরণীর সাথে মিলিয়ে আমি ১৫ দিনের ছুটির দরখাস্ত করে ফেললাম। যেদিন দরখাস্ত জমা দিলাম সেইদিন সন্ধ্যায় জানতে পারলাম অরণীর ছুটি বাতিল হয়েছে ওর অফিসে হঠাৎ একটা পরিস্থিতির কারণে। এদিকে আমার ছুটি মঞ্জুর, সেটা আর বদলাবার কোন উপায় নেই।

ভাবলাম আচ্ছা সেটা কোন ব্যপার না … টিম লিডার অপূ আছে, আরো দু একজন সাথে যেতে চায়… সবাই মিলে কয়েকটা দিন ঘুরে আসা যাবে বান্দরবান। কিন্তু পর দিন দুপুরেই অপূ জানালো ভেজাল আরো আছে। সেটা হলো রোপ ফোরের মিশন হিমালয়ার ক্যাম্পে তার ট্রেইনার হিসেবে অংশগ্রহণ করার কথা! তার তারিখটা খেয়াল ছিল না, এখন তার খেয়াল হয়েছে যে আমার ছুটির সময়েই রোপ ফোরের ক্যাম্প!
বান্দরবানের গহীনে হারাই Part 1

যেহেতু অরণীদের প্ল্যানে অপূর কোন আপত্তি ছিলনা আমি ধরেই নিয়েছিলাম অপূ রোপ ফোরের ক্যাম্প স্কিপ করেই বান্দরবান যাবার পরিকল্পনা করছে, তার যে ক্যাম্পের তারিখ মনে নাই সেটা মাথাতেও আসে নাই এদিকে আমি ১৫ দিনের ছুটিটা নিয়ে ফেলেছি।

আবারো শুরু হলো পরিকল্পনার দ্বন্দ্ব। কই যাব একা একা!!! ভিসা লাগেনা এমন কাছে পিঠের সব দেশ আমার ঘোরা শেষ! দেশের মধ্যেই বা কই যাব!!! অপূ ছাড়া বান্দরবানের অচেনা রুটে নতুন প্ল্যান করে একা একা যাবার রিস্কও নিতে পারতেছিলাম না। সেই সাথে রুমা আর পদ্মমুখ থেকে অপহরণের সংবাদও শুনলাম। সব কিছু মিলে ভীষণ আপসেট হয়ে রইলাম কি করবো, কই যাব এইসব ভেবে। আমার অবস্থা বিবেচনা করে অপূ রোপ ফোরের মিশন হিমালয়া ২০১৯ এর ক্যাম্পে যাওয়া বাদ দিয়ে আমাকে নিয়ে বান্দরবান যাবার সিদ্ধান্ত নিল। দু:খিত মাহী আর মারুফা। দোষ কার তোমরাই বিবেচনা করো 😛

যাবার সিদ্ধান্ততো হলো….. এখন টিম মেম্বার নিয়ে অনিশ্চয়তা। অবশ্যই ছোট টিমে যাব। ম্যাক্সিমাম ৪/৫ জনের টিম হবে। যারা প্রায় সময়ই আমাদের সাথে ঘুরতে যেতে চায় তাদের নক দিলাম। কিন্তু হঠাৎ করে এতো লম্বা সময়ের জন্য কারো পক্ষেই ছুটি ম্যানেজ করা সম্ভব না। এর পর কিভাবে কিভাবে ৫ জনের ছোট্ট একটা দল হয়ে গেল সেটাও বিরাট কাহিনী, সেটা আর এখন লিখলাম না……শুধু এইটুকু বলি …. শরতের এক শুভ্র সকালে আমরা ৫ জন নৌকা করে তৈন খাল ধরে এগিয়ে যেতে লাগলাম বান্দরবানের গহীনে হারাতে।

গল্প চলবে…..বান্দরবানের গহীনে হারাই Part 1

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *